বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৭

গল্প - ১: স্বপ্ন এবং লক্ষ্য

স্বপ্ন এবং লক্ষ্য 

লেখক: আরিফুর রহমান

একটি ছোট্ট দেশের এক ছেলের গল্প শোনাই তোমাদের। সেই দেশের নাম ছিল মেঘলাপুর, আর সেই ছেলের নাম ছিল অভিরাজ। অভিরাজ ছিল একদম সাধারণ একটি ছেলে, কিন্তু তার মনের ভেতরে ছিল অসাধারণ এক শক্তি। তার দুই চোখে ছিল অসীম স্বপ্ন। ছবি আঁকতে আর গল্প-কবিতা লিখতে তার খুব ভালো লাগতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবনের বিশাল অনুপ্রেরণা ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মতো সে শিল্পের সব শাখায় পা রাখতে চাইতো।

ছোটবেলার দিনগুলো

অভিরাজের ছোটবেলার দিনগুলো ছিল রঙিন। সে দিন রাত এক করে ছবি আঁকতো, গল্প লিখতো, আর রবীন্দ্রনাথের গান গাইতো। গ্রামের লোকেরা তাকে অনেক ভালোবাসতো। তারা বলতো, "এই ছেলে একদিন বড় শিল্পী হবে।" তার পরিবারও তাকে সবসময় উৎসাহ দিত।

স্বপ্নের পেছনে ছোটা

বয়স বাড়ার সাথে সাথে অভিরাজের স্বপ্নও বড় হতে লাগলো। সে সিদ্ধান্ত নিলো, সে তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম দিয়ে বিশ্বকে জয় করবে। অনেকেই তাকে বলতো, "এত বড় স্বপ্ন কেন দেখছো? জীবন তো সহজ না, ব্যর্থ হলে কী হবে?" কিন্তু অভিরাজ বিশ্বাস করতো, "মানুষ যদি চেষ্টায় বিশ্বাস রাখে, তবে অনেক দুঃসাধ্যকেও সাধ্যে পরিণত করা সম্ভব।"

সংগ্রামের শুরু

অভিরাজ স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তি হলো। সেখানে গিয়ে সে তার সৃষ্টিশীল কাজের জন্য অনেক প্রশংসা পেতে শুরু করলো। কিন্তু জীবন সবসময় মসৃণ পথে চলেনা। একদিন কলেজের এক প্রতিযোগিতায় তার ছবি নির্বাচিত হলো না। সে খুবই ভেঙে পড়লো। কিন্তু তার মনের ভেতরে থাকা আত্মবিশ্বাস তাকে শক্তি দিলো। সে ভাবলো, "এখনই হাল ছাড়া যাবে না।"

নতুন করে শুরু

অভিরাজ তার কাজ আরও নিখুঁত করতে শুরু করলো। সে নতুন নতুন জিনিস শিখতে শুরু করলো। বিভিন্ন শিল্পীর কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হলো। প্রতিদিন সে তার নিজের দক্ষতাকে উন্নত করতে লাগলো। এক সময় তার কাজ কলেজের একটি প্রদর্শনীতে জায়গা পেলো। সবাই তার কাজের প্রশংসা করলো। সে বুঝতে পারলো, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস কখনও বিফলে যায় না।

জীবনসংগ্রামের পাঠ

একদিন তার কাজ একটি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হলো। তখন তার মনের ভেতরে আবার নতুন করে স্বপ্ন জাগলো। সে সিদ্ধান্ত নিলো, আন্তর্জাতিক স্তরে তার কাজ প্রদর্শন করবে। তখন সে বুঝলো, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চেষ্টা করা খুবই জরুরি।

স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলা

অভিরাজ তার সৃজনশীল কাজ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিলো। তার পরিবার তাকে সবরকমভাবে সাহায্য করলো। সে বিদেশে গিয়ে তার কাজ আরও উন্নত করতে শুরু করলো। বিভিন্ন দেশে তার কাজের প্রদর্শনী হলো। সে বিভিন্ন পুরস্কার পেলো।

অভিরাজের সাফল্য

একদিন সে বিশ্ববিখ্যাত একজন শিল্পী হয়ে উঠলো। তার কাজ নিয়ে বই প্রকাশিত হলো, প্রদর্শনী হলো। সে বুঝতে পারলো, জীবনের স্বপ্ন পূরণের জন্য শুধু ইচ্ছা আর স্বপ্ন নয়, কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসও অত্যন্ত জরুরি।

জীবনের শিক্ষাটি

অভিরাজের গল্প আমাদের একটি মহৎ শিক্ষা দেয়। জীবনের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চেষ্টা করা উচিত। স্বপ্ন দেখা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করাও জরুরি। মানুষ চেষ্টায় বিশ্বাস রাখলে অনেক দুঃসাধ্যকেও সাধ্যে পরিণত করা সম্ভব।

সমাপ্তি

অভিরাজ আজ মেঘলাপুরের গর্ব। তার গল্প আমাদের শেখায় যে, স্বপ্ন দেখা জরুরি, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চেষ্টা করা আরও জরুরি। জীবনের পথে অনেক বাধা আসবে, কিন্তু আত্মবিশ্বাস আর পরিশ্রম দিয়ে সব বাধা জয় করা সম্ভব।